২০২৬ সাল

ইউরোপে ফিরে আসবে মূল্যস্ফীতির চাপ?

জানুয়ারিতে টানা অষ্টম মাসের মতো ইউরোজোনে বেসরকারি খাতের কার্যক্রম সম্প্রসারণ হয়েছে।

জানুয়ারিতে টানা অষ্টম মাসের মতো ইউরোজোনে বেসরকারি খাতের কার্যক্রম সম্প্রসারণ হয়েছে। তবে পরিষেবা খাতে মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ প্রবণতা অব্যাহত থাকলে চলতি বছর ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংকের (ইসিবি) সুদহার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তকে জটিল করে তুলতে পারে। খবর ইউরো নিউজ।

হ্যামবুর্গ কমার্শিয়াল ব্যাংক (এইচসিওবি) ও এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল প্রকাশিত সর্বশেষ ফ্ল্যাশ পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স (পিএমআই) জরিপ অনুযায়ী, বছরের শুরুতে ইউরোজোনের অর্থনীতি দুর্বল প্রবৃদ্ধির ধারায় রয়েছে।

উৎপাদন ও পরিষেবা উভয় খাতের আউটপুট-নির্ভর কম্পোজিট পিএমআই জানুয়ারিতে ৫১ দশমিক ৫-এ অপরিবর্তিত রয়েছে, যা বাজারের প্রত্যাশিত ৫১ দশমিক ৮-এর তুলনায় কিছুটা কম।

ইউরোজোনের পরিষেবা পিএমআই জানুয়ারিতে ৫১ দশমিক ৯-এ নেমেছে, যা গত চার মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। টানা তৃতীয় মাসের মতো উৎপাদন পিএমআই ৫০-এর নিচেই রয়ে গেছে, যা খাতটিতে সংকোচনের ইঙ্গিত দেয়।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো, পরিষেবা খাতে মূল্যস্ফীতির ফের গতিবৃদ্ধি। ডিসেম্বরে ইউরোজোনে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি নেমে এসেছিল ১ দশমিক ৯ শতাংশে, যা ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার নিচে। কিন্তু জানুয়ারির পিএমআই প্রতিবেদনে ইঙ্গিত মিলছে, অন্তর্নিহিত মূল্যচাপ এখনো কমেনি।

এছাড়া বিক্রয়মূল্যের মূল্যস্ফীতি ২০২৪ সালের এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যার প্রধান চালিকাশক্তি পরিষেবা খাত। এর বিপরীতে উৎপাদন খাতে আউটপুট মূল্য সামান্য হারে কমছে।

ইসিবির সর্বশেষ মূল্যস্ফীতি পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে মূল্যস্ফীতি ১ দশমিক ৯ শতাংশ এবং আগামী বছর ১ দশমিক ৮ শতাংশে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গত মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকটির বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন লাগার্দ বলেন, ‘পরিষেবা খাতে প্রত্যাশার তুলনায় বেশি মূল্যস্ফীতি এবং তা সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিতে অবদান রাখা খুব একটা অপ্রত্যাশিত নয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘পণ্যমূল্যের পতন এ চাপকে কিছুটা ভারসাম্য দিচ্ছে, কারণ দুই উপাদান বিপরীতমুখী গতিতে চলছে।’

মিশ্র কার্যক্রমের তথ্য ও নতুন করে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা সত্ত্বেও ইউরোজোনজুড়ে ব্যবসায়িক আস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।

ইউরোজোনের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির দিকে তাকালে ভিন্নধর্মী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। জার্মানির বেসরকারি খাতে নতুন করে গতি ফেরার লক্ষণ মিলেছে। জানুয়ারিতে দেশটির কম্পোজিট পিএমআই বেড়ে তিন মাসের সর্বোচ্চ ৫২ দশমিক ৫-এ পৌঁছেছে। অন্যদিকে এর বিপরীতে ফ্রান্সের অর্থনীতি আবারো সংকোচনে নেমেছে। জানুয়ারিতে দেশটির কম্পোজিট পিএমআই ৪৮ দশমিক ৬-এ নেমেছে, যা ডিসেম্বরে ছিল নিরপেক্ষ ৫০। এটি অক্টোবরের পর প্রথমবারের মতো অর্থনীতির পতনের ইঙ্গিত এবং বাজার পূর্বাভাসের চেয়েও দুর্বল ফল দিল।

আরও